জাতিসংঘের বার্ষিক বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ অংশ নিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৌদি আরবের জেদ্দায় তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের (সিএফএম) ২৩তম বিশেষ অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। বৈঠকের সময়ই তিনি বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আসন্ন তুরস্ক সফরের বিষয়ে তুর্কি পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা সমসাময়িক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে নিজেদের আগ্রহ ও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ। বিশেষ করে অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা এসব খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বার্ষিক সম্মেলন কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ বা কপ৩১ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কপ সম্মেলনে সাধারণত বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানো, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
এবারের কপ৩১ সম্মেলনেও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।
