ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খড়মপুরে শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারে ওরস উপলক্ষে খোলা চারটি দানবাক্সে পাওয়া গেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি দানবাক্সগুলোতে মিলেছে স্বর্ণালংকার, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ধরে টাকা গণনা শেষে রাত সাড়ে ৪টার দিকে হিসাব সম্পন্ন হয়।
সোমবার সকাল ৯টায় মাজারের চারটি দানবাক্স খোলা হয়। এরপর শুরু হয় টাকা গণনার কাজ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গণনায় চারটি দানবাক্স থেকে মোট ১২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। পরে গণনা শেষে পাওয়া নগদ ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা দেওয়া হয়।
দানবাক্স খোলার সময় আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। টাকা গণনায় সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।
মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট থেকে মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। ১৪ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় আখেরি মোনাজাত। এতে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান অংশ নেন। এরপর ১৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত ওরসের আনুষ্ঠানিকতা চলে।
ওরসকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বিদেশ থেকে আসা ভক্তরা মাজারের দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। দানবাক্সের বাইরে মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাবও করা হচ্ছে। এসব সামগ্রী বর্তমানে মাজার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম জানান, ২০২৩ সালে দানবাক্সে ৮৪ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ৬১ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তবে এবারই প্রথম দানবাক্সে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ এক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো। প্রতি বছর ওরসকে কেন্দ্র করে এখানে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। এবারও দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্তের উপস্থিতিতে ওরস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর তাদের দেওয়া দানেই এবার মাজারের চারটি দানবাক্স থেকে উঠে এসেছে এক কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ, সঙ্গে স্বর্ণ-রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।
