আওয়ামী লীগ সরকারকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিষিদ্ধ করার দাবির জবাবে দলটির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, এই দোষের ‘বড় ভাগীদার’ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীও। তিনি মন্তব্য করেন, ২০১৪ সালের সরকারের অধীনে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারাও সেই সরকারকে বৈধতা দিয়েছে।
শনিবার দুপুরে গুলশানের হাওলাদার টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আমরা আওয়ামী লীগের সহযোগী ছিলাম এবং সুবিধা পেয়েছি। কিন্তু যারা অভিযোগ দিচ্ছেন, তারা এর চেয়েও বড় অভিযোগে অভিযুক্ত।”
তিনি বলেন, “২০১৪ সালে আমরা একটি বৈধ নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছি। সেই সরকারের অধীনেই বিএনপি-জামায়াতসহ সব দল সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছে। তাহলে সেই সরকারকে বৈধতা কে দিয়েছে?”
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “দোষ শুধু আমাদের? যে দোষ আমাদের ওপর দিচ্ছেন, সেই দোষের বড় ভাগীদার তো আপনারা।”
আনিসুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার জোট ছিল একটি নির্বাচনি কৌশল। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রত্যেক দলই কৌশল ঠিক করে। আজকেও তো বিভিন্ন দল জোটে যাচ্ছে। জোট কি শুধু মতাদর্শের ভিত্তিতে হয়? সবচেয়ে বেশি আসন জেতার কৌশল থেকেও জোট হয়।”
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যখন বাতিল করা হয়, তখন বিএনপি-জামায়াত সংসদে ছিল। তারা সেদিন সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে আজ কথা বলতে পারতো।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাপা নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি আশ্চর্য হয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনেক অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু আমরা কখনও তাদের নিষিদ্ধ করার কথা বলিনি বা সমর্থনও করিনি।” তার মতে, জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা চলছে।
ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তা একপেশে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আপনারা মনে করছেন কোনোমতে একটি নির্বাচন হয়ে গেলেই সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু যেনতেন নির্বাচন হলে হবে না। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ হতে হবে। হিটলার-মুসোলিনিও নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাপার মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, নেতা মুজিবুল হক চুন্নু, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।