সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত বিভিন্ন নৃশংসতার দায়ে তার বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে আসাদের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম কোনো আদালতের রায়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পরিবারসহ সিরিয়া ছেড়ে মস্কোতে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। এরপর তিনি আর সিরিয়ায় ফিরে আসেননি। ফলে আদালতে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
রায়ে আসাদ সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তা আতিফ নাজিবকেও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় বিদ্রোহ শুরুর অন্যতম কেন্দ্র দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই আতিফ নাজিবকে গত বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাকে পরিকল্পিত হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হত্যা এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ওই সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় ঘটে। সেই সময় সংঘটিত বিভিন্ন নৃশংসতার দায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
