BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের তিন শর্ত, কঠিন অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি বড় দাবি জানিয়েছে ইরান। তেহরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ইরানের ওপর আরোপ করা সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল। অন্যদিকে, এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেয়নি ওয়াশিংটন। ফলে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর তৎপরতার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে সম্প্রতি কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করা এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।

মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালির একটি অংশে সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দেওয়া এবং প্রণালিতে থাকা মাইন অপসারণে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালুর বিষয়ে অগ্রসর হতে পারে তেহরান।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তেহরানের অবস্থান ও শর্ত জানতে চেয়েছে। শিগগিরই তাদের কাছে ইরানের শর্তগুলোর তালিকা তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তেহরানের প্রধান দাবির প্রথমটি হলো, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার। এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে দেশটি। তৃতীয় দাবিটি হলো, ইরানের ওপর আরোপ করা সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাতার, ওমান ও পাকিস্তান সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশ তিনটির প্রতিনিধিরা তেহরানে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কিংবা পরোক্ষ আলোচনার নতুন পথ তৈরি করা। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

তবে ইরানের দাবির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে দিয়ে নিয়মিত তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপ করা মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহাল থাকবে বলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি চালুর জন্য তেহরান যেখানে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের মতো বড় শর্ত সামনে এনেছে, সেখানে ওয়াশিংটন সেসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

এ অবস্থায় মধ্যস্থতাকারী কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা কতটা সফল হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় সংকট দ্রুত সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই তেহরানের শর্ত, ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ—সবকিছুর দিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সূত্র: রয়টার্স, আল মানার টিভি

Pearl IT
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স ডিজাইন
কন্টেন্ট পাবলিশিং
এসইও সার্ভিস
অর্ডার করুন »