পটুয়াখালী শহরের কলাতলা এলাকায় চাঞ্চল্যকর নাহিদ (২৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাহিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ক্রিকেট ব্যাট ও দুটি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী পটুয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মাহিন (২৩), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নাহিদ (২৩), মো. তুষার আহমেদ হৃদয় ওরফে ছোটন (২২) এবং সাইফুল ইসলাম হীরা (২৩)।
পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নিহতের ছোট ভাই ফাহিম ও অভিযুক্ত মাহিন ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। মাস দুয়েক আগে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসা হলেও মাহিন ফাহিমের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জের ধরে গত ৩০ ডিসেম্বর ফাহিমকে কলাতলা মাছ বাজার এলাকায় ডেকে মারধর করা হয়। সে সময় বড় ভাই নাহিদ বাধা দিতে গেলে তিনিও হেনস্তার শিকার হন।
পরদিন (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে কলাতলা এলাকায় পরিকল্পিতভাবে নাহিদের ওপর হামলা চালায় আসামিরা। এ সময় ক্রিকেট ব্যাট ও স্ট্যাম্প দিয়ে নাহিদের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ জানুয়ারি নাহিদ মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা. নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ১ জানুয়ারি পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কারোর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।