মেহেদী হাসান শান্ত, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর দুমকিতে লুথার্যান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ নামে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ছাড়াই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদে তাহিরা মুরতাজা নামে একজন চিকিৎসক নিয়োগের অভিযোগের পরেও কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় এখনো বহাল তবিয়তেই সেই চিকিৎসক। এছাড়াও ভুল চিকিৎসা, রোগীদের অহেতুক পরীক্ষা নিরীক্ষা, প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা, নরমাল ডেলিভারি না করে সিজার করাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। কিন্তু লুথর্যান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ দুমকির নির্বাহী পরিচালক ডাঃ গ্রেনার মারাক এসব বিষয় কর্ণপাত না করেও এখনো তাকে দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও গর্ভবতী এক নারীকে সিজার করার সময় মুত্রথলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠে। এ সকল ঘটনা প্রকাশ হলে এলাকাবাসী ও সেবা প্রত্যাশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী লুথার্যান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ এর নিজস্ব ওয়েব সাইট ও বিডি জবস্ ডট কম প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সেখানে আবেদনকারির ডিজিও/ এফসিপিএস ডিগ্রির কথা বলা থাকলেও ডাঃ তাহিরা মুরতাজার কোনটিই ছিলোনা। তিনি ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল উক্ত পদে আবেদন করেন এবং কতৃপক্ষ বোর্ড গঠন করে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা ডাঃ তাহিরা মুরতাজাকে নিয়োগকালীন যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেন। ০১ জুন ২০২৫ তারিখ ডাঃ তাহিরা দুমকিতে গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগদান করেন।
গত বছর ১৩ জুলাই ফাহিমা আক্তার নামে এক গর্ভবতী রোগীর সিজার করতে গিয়ে মুত্রথলির ক্ষতিগ্রস্ত করলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। রোগীর স্বজনদের সাথে সমঝোতা করে এবং ভুল চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এবছরের ২১ ফেব্রুয়ারী অপরিণত বয়সী নবজাতককে সিজার করলে নবজাতকের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তিনি পটুয়াখালী হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং সেখান থেকে বরিশাল। বরিশাল থেকে ঢাকা নেয়ার পথে নবজাতকটি মারা যায়। এ নিয়েও তুমুল বিতর্ক শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডাঃ গ্রেনার মারাক ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে নিজস্ব তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের টাকা মওকুফ করেন। যদিও গ্রেনার মারাক ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সহায়তা বলে দাবি করেন।
ডাঃ তাহিরা মুরতাজার কাছে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
লুথার্যান হেলথ কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ গ্রেনার মারাক এ বিষয়ে বলেন, নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কাংখিত যোগ্যতা সম্পন্নরা বেশি সম্মানী দাবি করেছেন যা আমাদের জন্য প্রদান করা ব্যয়বহুল।
দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মীর শহীদুল হাসান শাহীন বলেন, ওই ডাক্তারের নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানেননা। তবে কাঙ্খিত ডিগ্রি ছাড়া তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেননা।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ খালেদুর রহমান মিয়া জানান, ডাঃ তাহিরা মুরতাজার নিয়োগের বিষয়টি তার জানা নাই। কিন্তু প্রয়োজনীয় ডিগ্রী ছাড়া কোনো চিকিৎসকই বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিতে পারবেন না।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সাল থেকে উপজেলা সদরে অবস্থিত এ চিকিৎসা কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, প্যাথলজি ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান শুরু করে শুরুরদিকে বেশ সুনামের সাথেই কাজ করে আসলেও ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে কর্মকর্তা – কর্মচারীদের মধ্যে অন্ত:কোন্দলে চরম অস্থিরতার মধ্যে পরে। ২০২৩ সালে গ্রেনার মারাক এসে গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগকালীন যোগ্যতা না থাকা ডাঃ তাহিরা মুরতাজাকে নিয়োগ দিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ডাঃ তাহিরা মুরতাজার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যেসকল যোগ্যতা চেয়ে দরখাস্ত আহবান করা হয়েছিল তা তাঁর না থাকলেও পেয়ে বসেছেন বিশেষজ্ঞ পদ। দেখা গেছে তিনি বিশেষজ্ঞ না হয়েও সিজারসহ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।