কামাল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধ :
পটুয়াখালীর গলাচিপায় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের স্মরণে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন এর মধ্যদিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, “জুলাই ছিল ঐক্যের প্রতীক। এই ঐক্যের জুলাই যেন কোনোভাবেই অনৈক্যের কারণ না হয়, সে ব্যাপারে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসীম, শাহাদাত, আকরামসহ শত শত তরুণের রক্ত ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। তাদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
এসময় তিনি তার নির্বাচনী এলাকার জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও বক্তব্য দেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা মহিলা দলের সদস্য রেনু আক্তার, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মো. জাকির মুন্সি, গলাচিপা প্রেসক্লাবের সভাপতি মু. খালিদ হাসান মিল্টন এবং শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ।
এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী নুর আলম, মো. ইমরান, আবুল খায়ের, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শাহেদ, শহীদ আতিকের মা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে গলাচিপা উপজেলার ছয়জন প্রাণ হারান।
