মাকসুদ আহমেদ, বায়েজীদ,মির্জাগঞ্জ,প্রতিনিধি।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও গ্রুপিংকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন শাখায় পাল্টাপাল্টি আংশিক কমিটি ঘোষণার ঘটনা ঘটেছে। একই তারিখে ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষর ও প্যাডে এসব কমিটি প্রকাশের পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি, আলোচনা-সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদলের এসব কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একই ইউনিয়নের জন্য ভিন্ন দুটি পক্ষ থেকে আলাদা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও নেতাদের বক্তব্যে জানা গেছে।
এক পক্ষের প্রকাশিত কমিটিতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবুল বাশার মোখলেছ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল মৃধার স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে। ওই প্যাডে ৩ নম্বর আমড়াগাছিয়া, ৪ নম্বর দেউলী সুবিদখালী, ৫ নম্বর কাকড়াবুনিয়া ও ৬ নম্বর মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসব কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপর প্রকাশিত কমিটিতে ১ নম্বর মাধবখালী, ৩ নম্বর আমড়াগাছিয়া, ৪ নম্বর দেউলী সুবিদখালী, ৫ নম্বর কাকড়াবুনিয়া ও ৬ নম্বর মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদনের কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভিন্ন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় পক্ষের প্রকাশিত নথিগুলোতে উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রাজিব হোসেন, সহ-সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মিরাজসহ কয়েকজন নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রাজিব হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্যাডে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তা উপেক্ষা করে আমার স্বাক্ষর ব্যতিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের মতো কমিটি প্রকাশ করেছেন।
নিজেদের অনুমোদিত কমিটির ব্যাপারে তিনি দাবি করেন, যারা দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে তাঁরা কমিটি গঠন করেছেন।
অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল মৃধা বলেন, কমিটি গঠনের আগে সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজিব হোসেনকে কয়েকবার ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি উপস্থিত হননি। পরে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের বিষয়টি জানিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাজমুল মৃধা বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই মতবিরোধ ছিল এবং অপর পক্ষও আলাদা কমিটি করার কথা জানিয়েছিল।
এদিকে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একই দিনে একই ইউনিয়নের জন্য দুটি পৃথক কমিটি প্রকাশ করায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি প্রকাশের পর উভয় পক্ষ একে অপরের প্রকাশিত নথিকে ‘ফেইক’ দাবি করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও দিয়েছে।
তাদের মতে, এতে কোন কমিটি বৈধ বা সাংগঠনিকভাবে অনুমোদিত—তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হওয়ায় একটি সাংগঠনিক ইউনিটে এ ধরনের প্রকাশ্য বিরোধ দলের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় দ্রুত জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. শামীম চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, মির্জাগঞ্জের ইউনিয়ন কমিটির ঘটনায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের অপমান করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ধৈর্যের অভাব ও অহংকারের কারণে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যথিত। সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় সংগঠন নিজস্ব নিয়মে ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও লেখেন, “সংগঠন কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।”
পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠেছে—কোন কমিটি সাংগঠনিকভাবে বৈধ এবং শেষ পর্যন্ত কোন কমিটি বহাল থাকবে। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
