ছাব্বির সরদার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের নোয়া (NOAH) মাইক্রোবাস জব্দ করে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে গোপালগঞ্জ পৌরসভার নবীনবাগ এলাকার এলজিইডি অফিসের সামনের পাকা সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোঃ উজ্জ্বল মোল্লা (৩৮) ও মোঃ রিফাত মোল্লা ওরফে ওয়াসিম (২২)। পুলিশ তাদের ‘কুখ্যাত ইয়াবা সম্রাট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ হাসানুর রহমান এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন চন্দ্র দেবনাথের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস টিম এলজিইডি অফিসের সামনে চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। রাত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটের দিকে একটি দ্রুতগামী সাদা রঙের নোয়া গাড়ি চেকপোস্ট অতিক্রম করার চেষ্টা করলে পুলিশ সেটিকে থামায়।
পরবর্তীতে গাড়িটিতে থাকা দুই যুবককে আটক করে তাদের দেহ এবং গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে গাড়ি থেকে সর্বমোট ৬৪ হাজার ১২৩ পিস নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ টাকা। এ ছাড়া মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত নগদ ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, নগদ টাকা এবং মাদক বহনে ব্যবহৃত ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের নোয়া গাড়িটি উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, “অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং গোপালগঞ্জকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি জেলার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন সেন্টুসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
