ভবিষ্যতে সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর মতে, এতে সংসদে আরও কার্যকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রায় ৩৫ বছর পর দেশে সাংবিধানিকভাবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দলের একজন প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারা অব্যাহত থাকা উচিত। এর মাধ্যমে দেশের জনগণ প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পারবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি জানান, এ নিয়ে গঠিত কমিটিতে এখনো বিরোধী দল অংশ নেয়নি। তবে সরকার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে রেখেছে। ভবিষ্যতে এ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তার রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যায়। অর্থাৎ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের ওপর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এই বিধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার অধিকার এবং দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরেও ৭০ অনুচ্ছেদ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই সাংবিধানিক বিধানে পরিবর্তন এলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সংসদীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
