কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে রেখে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরীক্ষা শেষে ভোরেই কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে শনিবার ভোরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল শেহবাজ শরিফের সরকার। তবে সর্বোচ্চ আদালত সেই আপিল গ্রহণ করেননি। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার রাতে ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা তৈরি হয়েছিল, হয়তো কয়েক দিন তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া ও ফের কারাগারে ফিরিয়ে আনার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর। শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতাল এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের আশপাশের একাধিক সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান তিনি। এরপর ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক মামলায় তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দীর্ঘ বন্দিজীবনে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন তার পরিবারের সদস্য ও দলের নেতারা। তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার দাবিও জানিয়ে আসছিলেন তারা। সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হলো।
