BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

ভিয়েনার জাদুঘর থেকে রাজপরিবারের ৬৭৩ হীরার নেকলেস চুরি!

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় দিনের আলোতেই জাদুঘরে ঢুকে মিসরের সাবেক রাজপরিবারের ঐতিহাসিক একটি হীরার নেকলেস চুরি করেছে দুই অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত। কাচের সুরক্ষিত প্রদর্শনী বাক্স ভেঙে নিয়ে যাওয়া নেকলেসটিতে ছিল ৬৭৩টি হীরা, যার মোট ওজন ২০০ ক্যারেটেরও বেশি। ২০১৫ সালে নেকলেসটির নিলামমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩ লাখ ডলার।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ভিয়েনার মিউজিয়াম অব অ্যাপ্লায়েড আর্টসে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে অস্ট্রিয়ার পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই চোর সাধারণ দর্শনার্থীর মতো টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা প্রদর্শনী কক্ষে গিয়ে কাচের সুরক্ষিত ডিসপ্লে কেস ভেঙে ঐতিহাসিক নেকলেসটি নিয়ে যায়। চুরির পুরো ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে।

জাদুঘরের সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজনকে দেখা গেছে। তাদের কারও মুখে মুখোশ ছিল না। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র সদৃশ একটি অস্ত্র ছিল। নেকলেসটি নিয়ে তারা জাদুঘরের দক্ষিণ দিক দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে ভিয়েনার স্ট্যাডপার্কের দিকে পালিয়ে যায়।

চুরি যাওয়া নেকলেসটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও অনেক। প্রখ্যাত ফরাসি বিলাসবহুল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলস এটি তৈরি করেছিল। ১৯৩৯ সালে মিসরের তৎকালীন রানি নাজলি তার মেয়ে রাজকুমারী ফাওজিয়ার বিয়েতে এই নেকলেস পরেছিলেন। ফাওজিয়ার সঙ্গে ইরানের তৎকালীন যুবরাজ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির সেই রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানে নেকলেসটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল।

মিসরের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত এই মূল্যবান অলংকারটি একটি বিশেষ প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে ভিয়েনায় আনা হয়েছিল। প্রদর্শনীটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা ছিল। এর মধ্যেই সেটি জাদুঘর থেকে চুরি হয়ে গেল।

নেকলেসটিতে থাকা হীরাগুলোর মোট ওজন ২০০ ক্যারেটের বেশি। এর আর্থিক মূল্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক মূল্যও রয়েছে। ২০১৫ সালে নিলামে নেকলেসটির মূল্য ৪৩ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে চোরাই অলংকারটি উদ্ধারে অস্ট্রিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাতে হচ্ছে।

ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাদুঘরের মহাপরিচালক লিলি হোলিন। তিনি বলেন, জাদুঘরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার পরও এই চুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। তবে জাদুঘরের কর্মীরা পরিস্থিতি শান্তভাবে সামাল দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে অস্ট্রিয়ান পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি স্নিফার ডগ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঐতিহাসিক এই রাজকীয় অলংকারটি শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। পুলিশ চোরদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »