মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদমির্জাগঞ্জ, প্রতিনিধি।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত সাত সদস্যের আংশিক কমিটি বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। বিতর্কিত ‘পকেট কমিটি’ বাতিল ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঝাড়ু মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের পর এবার মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কে এ প্রতিবাদ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে অপরিচিত, অরাজনৈতিক, চাকরিজীবী ও দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি বিতর্কিত ব্যক্তিদেরও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবি, গত ২৭ আগস্ট কমিটি বাতিলের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে যারা হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে কোনো কমিটি তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘোষিত কমিটিতে এমন কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে, যাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তৃণমূলে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে চাকরিজীবী, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় এবং মাদক কারবারিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
শনিবারের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান সুজন, মো. বাবুল মুন্সি, মো. শাহীন ফরাজীসহ অন্য নেতারা।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নিয়ে কমিটি বাতিল করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
