মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করতে তিনটি বড় কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানকে মোকাবিলায় মার্কিন মিত্রদের নিয়ে আঞ্চলিক জোট গঠন, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ট্রাম্প প্রশাসন এই কৌশল প্রণয়ন করছে। পরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়া তৈরির কাজ এখনো চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছরকে কেন্দ্র করে এসব পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে চান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
পরিকল্পনার প্রথম উপাদান হিসেবে ইরানকে প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি আঞ্চলিক মিত্রজোট গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই জোটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
দ্বিতীয় পরিকল্পনার আওতায় গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরায়েল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদন এবং ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হলো সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর পরিধি আরও বাড়িয়ে ঐতিহাসিক সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় তাঁর প্রশাসন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে ওয়াশিংটন। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, ট্রাম্প প্রশাসন পরিকল্পনাগুলো এগিয়ে নিতে জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
