BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

মুমূর্ষু স্ত্রীকে হাসপাতালে এনে মৃত ঘোষণা, এরপরই প্রাইভেটকার নিয়ে পালালেন স্বামী!

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করতেই প্রাইভেটকার নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন স্বামী। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত নারীর পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী তাকে মারধর করতেন এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। এদিকে চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছিল এবং তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশও মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রাইভেটকারে করে মুমূর্ষু স্ত্রী শাহিনা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হলে পালানোর চেষ্টা করেন তার স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান।

নিহত শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় স্ত্রী শাহিনাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই সিয়াম দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে পরে পুলিশ নিহত শাহিনার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর সিয়াম নিজের এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটকে রাখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

হাসপাতালের প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল জানান, চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সিয়ামের গতিবিধি উপস্থিত লোকজনের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর তিনি দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

নিহত শাহিনার মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার জামাই সিয়াম তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রায়ই শাহিনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ করেন শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমান। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর পালিয়ে গিয়ে সিয়াম ও শাহিনা বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আয়াশ নামে চার বছর বয়সী এবং আয়াত নামে এক বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মাজিদুর রহমানের অভিযোগ, সিয়াম মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে প্রায়ই শাহিনাকে মারধর করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তার দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হবে।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, শাহিনা হাসপাতালে আসার আগেই মারা গিয়েছিলেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করা স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে আগের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গলাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস নেওয়ার বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। তবে শাহিনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ওয়েব হোস্টিং কিনুন
৭৫% পর্যন্ত ছাড়ে!
  • ফ্রি ডোমেইন ও ইমেইল
  • আনলিমিটেড ফ্রি SSL
  • ৩০ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
অফারটি দেখুন »

- Advertisement -