শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ পলাতক ৩০ আসামির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিষয়ে আদেশ দেন। মামলায় মোট ৪১ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন মামলার অন্যতম আসামি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান ও ফারজানা রুপাসহ গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এর আগে পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান পরিচালনার সময় আসামিদের পারস্পরিক যোগসাজশে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল এবং ওই অভিযানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াই বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে।
