মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর হামলার মুখে নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করতে ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে যোগাযোগ ও আলোচনা হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সৌদি আরবের লক্ষ্য, হুথিদের গতিবিধি ও হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও লোহিত সাগরের নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার করা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ইসরায়েল হায়োম ও দ্য জেরুজালেম পোস্ট এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব সরাসরি নয়, বরং সেন্টকমের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চেয়েছে।
ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুথিদের মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা চেয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলের কাছ থেকেও গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য নিরাপত্তা সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সৌদি আরব একই ধরনের সহায়তার জন্য মিসর ও অন্যান্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে।
দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে এক আঞ্চলিক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সেন্টকমের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনাকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ‘ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এই যোগাযোগের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক সময়ে হুথি বাহিনী ওই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আঞ্চলিক নৌ-যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ ইসরায়েল সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব শুধু ইসরায়েলের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশের কাছ থেকেও সহায়তা চেয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করে রাজনৈতিক সমর্থন চেয়েছেন।
এদিকে ব্রিটিশ সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের উদ্ধৃত ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মানদেব থেকে হুথিদের সরিয়ে দেওয়া এবং সৌদির তেল অবকাঠামো রক্ষায় ব্রিটেনের কাছে সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার সৌদিতে সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে; তবে এর বাইরে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতির কথা সেখানে বলা হয়নি।
সব মিলিয়ে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও হামলার কারণে সৌদি আরব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা চাওয়ার খবর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের নতুন একটি মাত্রা সামনে এনেছে।
