ফরিদপুরের সদরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, হেলমেট পরা ১৪ থেকে ১৫ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ঢুকে শিক্ষক এম এ মোস্তাফিজুর রহমানের ডান পায়ে গুলি করেন। পরে বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে চলে যান তারা। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের একজন। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোস্তাফিজুর রহমানকে ওই দিন রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার ‘ইনজুরি নোট’ অনুযায়ী, তাঁর ডান পায়ে গুলির ক্ষত রয়েছে। এতে হাঁটুর নিচের অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া ডান কাঁধের হাড়ের স্থানচ্যুতি, বুকে আঘাতের দাগ এবং ডান হাতে ফোলা ও ব্যথার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান জাকেরডাঙ্গী গ্রামের সফিউদ্দীন রহমানের ছেলে। তিনি সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বুধবার স্কুল শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পর বিকেল ৫টার দিকে হেলমেট পরা ১৪ থেকে ১৫ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে তাঁদের বাড়িতে ঢোকেন। তাঁদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক, রামদা, চাপাতি ও কাঠের লাঠি ছিল। একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল বলে দাবি পরিবারের। বাড়িতে ঢুকেই তারা মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করেন। পরে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে চলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী আলতাফ শেখের সঙ্গে মোস্তাফিজুরের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর আলতাফ শেখের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
মোস্তাফিজুরের বোন মোহসীনা আক্তার বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার ভাইকে গুলি করা হয়েছে। হামলাকারীরা স্কুল থেকে তাকে অনুসরণ করে বাড়িতে এসে গুলি করে।’
মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান বলেন, ‘পৈতৃক সম্পত্তির ২৬ শতাংশ জমি চরভদ্রাসনের আলতাফ শেখের কাছে বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু তিনি আরও প্রায় ৪০ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার ছেলের ওপর হামলা হয়েছে।’
সফিউদ্দীন রহমানের অভিযোগ, আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল্লাহ আল মইদ (২৫)। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেখে পালাতে গিয়ে মোস্তাফিজুর পড়ে যান। তখন তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। তাঁর পা আগেই ভাঙা ছিল।’
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগও করেননি।’
ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। তাই প্রকৃত ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
