ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস ও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। একই সঙ্গে শুক্রবার দেশের সব রাজ্যের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করার কথা জানিয়েছে কংগ্রেস।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করবে তার দল।
অন্যদিকে কংগ্রেস জানিয়েছে, শুক্রবার ভারতের সব রাজ্যের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। দলটি জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার ও তাকে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তার আমলে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকায় করা পরিবর্তন স্বাধীনভাবে পর্যালোচনারও দাবি করেছে তারা।
এর একদিন আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন বা উদ্বেগ জানিয়েছেন। এর বেশিরভাগই গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়া নিয়ে। এসব বিষয়েই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন বলেছে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের সব কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে গত কয়েক বছর ধরে ভারতের বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতে সতর্কতা ছাড়াই লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ যাচাই ছাড়াই নতুন ভোটারদের নাম যুক্ত করা হয়েছে। তবে বিজেপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ নিয়েছে।
বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনসহ কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই ‘স্বৈরাচারী শাসনের’ অধীনে নয়; প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে।
এর আগে জুলাইয়ে যুব বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিল সিজেপি। ওই আন্দোলনের পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এটিকে তার সরকারের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়।
