কুমিল্লা প্রতিনিধি:আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চুরির পরিকল্পনাকারী একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৫ জন সক্রিয় নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাই ১৩টি মোবাইল ফোন এবং চোরাই মালামাল বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জমত আলীর মেয়ে সরলা আক্তার (৪২), একই জেলার নূর মিয়ার দুই মেয়ে এলেনা বেগম ওরফে হেলেনা (৪৫) ও খাদিজা আক্তার (২০), জলফু ভান্ডারীর মেয়ে বেদনা খাতুন (২৯) এবং হবিগঞ্জের আরব আলীর মেয়ে ফাহিমা আক্তার (১৯)।

পুলিশ জানায়, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন শহরের বাজার ও বিপণিবিতানগুলোতে ছদ্মবেশে এই চোর চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তারা কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষের মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে ভিড়ের মধ্যে মিশে যেত। এই চক্রটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় কিছুদিন ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে চুরি ও ছিনতাই করত।
পূজায় কেনাকাটা করতে আসা মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে এবং এই চক্রটিকে শনাক্ত করতে জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ দিকনির্দেশনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় আজ মুরাদনগর থানার কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নারীরা পেশাদার চোর চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উৎসবকালীন সময়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী যেকোনো চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
