ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা আর্থিক লেনদেন বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনজীবী হিসেবে নিজেই বাদী হয়ে মামলা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তার বিরুদ্ধে নিজেই মামলা করবেন। তিনি তথ্য সংগ্রহকারীদের দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, দুর্গাপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজে ১০ জন সুপারভাইজার ও ৯৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের ওপরই নির্ভর করছে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছানো। তাই কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা অন্য কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রথমে কুঁড়েঘর, ছাপড়া ঘর কিংবা যাদের থাকার মতো ঘর নেই, এমন দরিদ্র মানুষের তথ্য নিতে হবে। দুর্গাপুরের একজন প্রকৃত দরিদ্র মানুষও যেন ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অতীতে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, কিছু ক্ষেত্রে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও কার্ড পেয়েছেন এবং এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে বিয়ের পর অন্য এলাকায় থাকা ব্যক্তির নামেও কার্ড দেওয়া হয়েছিল। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে এবার নিয়মের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে বিকেলে দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকার কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ভার্চুয়ালি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনিয়মের ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলার কথাও জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার।
