ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণদের বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা এবং দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনকারীরা। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ‘মোদি এইমাত্র জরুরি অবস্থাকে আনুষ্ঠানিক করে ফেলেছেন।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে দীপকে দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে তরুণদের আন্দোলন থামানো যাবে না। তার ভাষ্য, দেশের তরুণরা এখন আর মোদিকে ভয় পায় না। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
ভারতে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। ওই সময় নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করা, সংবাদমাধ্যমে সেন্সরশিপ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কারাবন্দি করার ঘটনা ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা টেনে আন্দোলনকারীরা সরকারের সমালোচনা করছেন।
বামপন্থি ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাও মোদি সরকারের সমালোচনা করে জনগণকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কঠোর পুলিশি বিধিনিষেধের মধ্যেও অনেক তরুণ বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় কর্মরত ২৯ বছর বয়সী পরিচ্ছন্নতাকর্মী সন্তোষ কুমার পুলিশের ব্যারিকেডে কিশোর-তরুণদের আটক হতে দেখে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কয়েকজনকে আটক করলেও অন্যরা আবার বিক্ষোভে যোগ দিতে আসছেন। নেপাল ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতীয় তরুণদেরও নিজেদের দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তনে এগিয়ে আসার সময় এসেছে।
এদিকে ২৮ বছর বয়সী প্রকৌশলী সমীর ইরশাদ তাঁর ৫৭ বছর বয়সী মা শিবা আবদিকে হুইলচেয়ারে করে কনট প্লেসের একটি ব্যারিকেডের কাছে নিয়ে যান। শিবা আবদি বলেন, দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তিনি আগে দেখেননি। রাজধানীকে দুর্গের মতো করে ঘিরে রাখার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দিল্লির বাইরেও আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের ২৪ বছর বয়সী ছাত্রনেতা আরিফ দাবি করেন, দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঠেকাতে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা পরিবারের কাছে তাঁর অবস্থান জানতে চান। এরপর থেকে তাঁকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। দিল্লিতে যেতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলায় জড়ানো ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরিফ স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার জেলা পর্যায়ের একজন সমন্বয়ক।
সিজেপির চলমান আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটার তথ্যভান্ডারে চলমান পরিবর্তনের স্বচ্ছতা নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের উদ্বেগ উপেক্ষা করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
