বিজেপির বিরুদ্ধে হামলা, গুন্ডামি ও এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় বিজেপিকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, বুলডোজার চালানোর সাহস থাকলে তাদের ওপর দিয়েই চালানো হোক। একই সঙ্গে কালীপূজা ও দীপাবলির আগে ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী পূজার অনুমতি বাতিলের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে সংঘটিত সংঘর্ষের পর এসব মন্তব্য করেন মমতা। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে পরপর দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মমতার অভিযোগ, কালীপূজা ও দীপাবলির কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিষেকের বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে দলটির বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন মমতা।
এ ছাড়া এলাকায় দুর্গাপূজার একটি প্যান্ডেল প্রধান সড়কের ওপর অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পূজার যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন মমতা। পুরোনো পূজার অনুমতি বাতিল করে নতুন একটি পূজার আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে মমতা বলেন, এটি তাদের এলাকা এবং এই পথ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মা কালীর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাহলে কেন সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী পূজার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে, অথচ নতুন পূজার আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আগের রাতে স্থানীয় ক্লাবগুলোকেও তাদের কার্যক্রম চালাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মমতা আরও বলেন, তারা ইন্ডিয়া জোটের অংশ হওয়ায় বিজেপির এত ক্ষোভ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে গুন্ডামির অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, এলাকায় চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। রাত ২টা বা ৩টার দিকে লোকজন এসে হাজির হচ্ছে। বুলডোজার চালানোর সাহস থাকলে তাদের ওপর চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কালীপূজার মতো ধর্মীয় আয়োজনে গভীর রাতে লোকজন নিয়ে হামলা করতে আসার কারণ কী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যক্রমে বাধা দিতেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা দেওয়া তথ্যের মধ্যে উল্লেখ নেই।
