যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর দেশটির বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত পরিচালনাকারী সিনিয়র ফেডারেল প্রসিকিউটর জেসন রেডিং কুইনোনস। নির্বাচনের ফলাফলের পর বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক-আইনি চাপের মধ্যে এই পদত্যাগগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেসন রেডিং কুইনোনস বিচার বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বের চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী বেশ কিছু বিতর্কিত তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। তবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়।
এ ছাড়া বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশনের প্রধান জন আইজেনবার্গ শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলনও দায়িত্ব ছেড়ে দেন। সব মিলিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিচার বিভাগের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিদায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ফলে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের তদারকি ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে নতুন তদন্ত শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিভাগের ভেতরে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা আইনি কিংবা রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কুইনোনসের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তিনি কুইনোনসের নেতৃত্বের জন্য বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইনোনস ও হারমিত ধিলনের মতো কয়েকজন কর্মকর্তা উচ্চপর্যায়ে বিভিন্ন তদন্ত ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতির সব বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এতে বিচার বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে কুইনোনসের নেতৃত্বাধীন মায়ামি মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্লাঞ্চের ঘোষণাটি বেশ চমক সৃষ্টি করে।
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় দায়িত্ব পালনকালে কুইনোনস কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোর বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি অভিযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটিকে বিচার বিভাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
তবে একই সময়ে ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সে গ্র্যান্ড জুরি ব্যবহার করে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প ও তার নির্বাচনী প্রচারণার বিরুদ্ধে তদন্তে যুক্ত সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানোর চেষ্টা করেন তিনি। কয়েক মাসের মধ্যে মামলা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো মামলা দাঁড় করাতে পারেননি। এ নিয়ে বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন সিনেটে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে শূন্যতা পূরণ করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট চাইলে তার মেয়াদের বাকি সময় এসব পদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর বিচার বিভাগের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, শূন্য পদগুলোতে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র: সিএনএন
