BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

ভারতকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ-চীনকে নিয়ে জোটের প্রস্তাব পাকিস্তানের

ভারতকে পাশ কাটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গড়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বিস্তৃত করে আরও দেশকে এতে যুক্ত করা হতে পারে।

বুধবার ইসলামাবাদে ‘ইসলামাবাদ কনক্লেভে’ দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পাকিস্তান ‘জিরো–সাম’ (শূন্য-সমষ্টিগত) কূটনীতির বিরোধী এবং সংঘাতের বদলে সহযোগিতায় বিশ্বাসী। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রচলিত আঞ্চলিক কাঠামো (সার্ক) যখন স্থবির, তখন বিকল্প উদ্যোগ সময়ের দাবি।

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা ‘সার্ক’ দীর্ঘ বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে। ভারত ও পাকিস্তানের বৈরিতাকেই এর মূল কারণ হিসেবে দেখা হয়। দেশ দুটির মধ্যে গত ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো কাঠামোগত সংলাপ হয়নি। এর মধ্যে চলতি বছরের (২০২৫) মে মাসে দুই দেশের মধ্যে চার দিনের সীমিত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সম্পর্ককে আরও তলানিতে নিয়ে ঠেকেছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যেও বড় ফাটল ধরেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। নয়াদিল্লি তাকে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর গত নভেম্বরে (২০২৪) বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক উদ্যোগকে ভারতের প্রভাব খর্ব করার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের পরিকল্পনা কী?
ইসহাক দার বলেন, চীন ও বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক এই সহযোগিতা অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ‘পারস্পরিক উপকারিতা’ বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে ভিন্ন ভিন্ন আদলে আঞ্চলিক জোট হতে পারে।

পরোক্ষভাবে ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় উন্নয়ন কারও একগুঁয়েমির কাছে জিম্মি থাকতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এমন একটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখে, যেখানে বিভাজনের বদলে সংযোগ গড়ে উঠবে এবং বিরোধের মীমাংসা হবে শান্তিপূর্ণভাবে।

বাণিজ্য সংযোগ ও সার্কের ব্যর্থতা
লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসএসপিআর-এর পরিচালক রাবিয়া আখতারের মতে, সার্ক স্থবির হয়ে পড়ায় পাকিস্তান আঞ্চলিক সহযোগিতাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাইছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য খুবই কম, যা এই অঞ্চলের মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ (প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার)। অথচ বিশ্বব্যাংকের মতে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করলে তা ৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারত। তুলনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘আসিয়ান’ জোটের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য তাদের মোট বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ।

২০১৪ সালে কাঠমান্ডু সম্মেলনের পর থেকে সার্কের কার্যক্রম থমকে আছে। ২০১৬ সালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলন ভারত বয়কট করার পর তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

নতুন জোট কি সফল হবে?
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক শহাব এনাম খান মনে করেন, পাকিস্তানের উদ্যোগটি উচ্চাভিলাষী হলেও সময়োপযোগী। কারণ দক্ষিণ এশিয়া বারবার নিরাপত্তা রাজনীতির ফাঁদে পড়ে বাস্তবসম্মত আঞ্চলিক জোট গড়তে ব্যর্থ হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রভীন দোণ্তি বলেন, সার্কের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন এই ফোরামের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের মতো দেশগুলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও যোগাযোগের স্বার্থে এতে আগ্রহ দেখালেও, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফারওয়া আমের মন্তব্য করেন, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন পাকিস্তানকে নতুন ভূ-রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, যা তারা এই নতুন জোট গঠনের ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে চাইছে। -আল জাজিরা

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »