ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এবং তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ঘুষ প্রদানের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পের কাজ পেতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে এই পরোয়ানা জারি হয়।
এ ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন। তিনি বলেছেন, গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চুক্তির পুনর্মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশের আদালত সম্প্রতি আদানির সঙ্গে থাকা বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশের একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রে আদানির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়।
আদানি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি চুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে চুক্তিটি কোনো টেন্ডার ছাড়াই স্বাক্ষরিত হওয়ায় এটি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আদানি গ্রুপ ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। তবে কয়লার দাম এবং বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদানিকে চিঠি দিয়ে বিদ্যুতের দাম পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং বাংলাদেশের আদালতের তদন্ত নির্দেশনার ফলে পুরো চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদ্যুতের খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে।
সূত্র: দ্য হিন্দু