ভারতের মহারাষ্ট্রে গিরিখাতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল (৩৮)। মৃত্যুর আগে ধারণ করা ১৩ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় পারিবারিক নির্যাতনবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে আইন পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিজের মা ও ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশ্বরাজসিংহ ভারতের ডাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আট মাসের মাথায় তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে সংকট দেখা দেয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ৯ অক্টোবর আদালতেও হাজির হয়েছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে বিশ্বরাজসিংহ নিজের দাম্পত্য জীবন ও আইনি লড়াই নিয়ে হতাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সাধারণ দাম্পত্য বিরোধকে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে রূপ দিয়েছেন। তবে তাঁর এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিয়েকে পবিত্র বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও মতের অমিল ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে অনেক সময় সম্পর্ক ভেঙে যায়। কিন্তু দাম্পত্য বিরোধ আইনি লড়াইয়ে রূপ নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্বরাজসিংহ দাবি করেন, তাঁর মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা। তাঁর অভিযোগ, মামলা দায়েরের সময় পুলিশ যথাযথ প্রমাণ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি যাচাই করেনি। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য বা মামলার নথি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্বরাজসিংহ আরও দাবি করেন, এ ঘটনায় তিনি মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে পড়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁর স্ত্রীকে নিজেদের বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর স্ত্রী যেতে চাননি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, স্ত্রীর স্বর্ণালংকার তাঁদের কাছে রয়েছে—শ্বশুরবাড়ির পক্ষের এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন বিশ্বরাজসিংহ।
ভিডিওতে নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মা ও ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, নিজের মৃত্যুর পর তাঁদের কী হবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।
ভারতের দণ্ডবিধির সাবেক ৪৯৮এ ধারা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিশ্বরাজসিংহ। এই ধারায় স্বামী বা তাঁর আত্মীয়দের দ্বারা স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুরতাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি আইনটির পরিবর্তনের দাবি জানান। তবে পারিবারিক নির্যাতন ও যৌতুকসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বরাজসিংহের মৃত্যুর ঘটনা দাম্পত্য বিরোধ, আইনি প্রক্রিয়া এবং পারিবারিক নির্যাতনবিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে মৃত্যুর আগে ভিডিওতে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে করা। সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, তদন্তের ফলাফল ও অন্য পক্ষের বক্তব্য যাচাই ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সূত্র: ভাস্কর ইংলিশ
