ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন দেশটির আরব মুসলিম ভোটাররা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী আরব নেতারা ভোটারদের ব্যাপক হারে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আসনসংখ্যা সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্য। তাঁদের বড় অংশ ফিলিস্তিনি আরব বংশোদ্ভূত হলেও তাঁরা ইসরায়েলের নাগরিক। এই জনগোষ্ঠীর ভোটদানের হার বাড়লে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর সরকার গঠনের প্রচেষ্টায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
ইউনাইটেড আরব লিস্ট পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাস এবং জয়েন্ট লিস্টের নেতা আহমেদ তিবি মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাঁদের মতে, নির্বাচনে আরব নাগরিকদের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। মনসুর আব্বাসের ইউনাইটেড আরব লিস্ট পাঁচটি এবং জয়েন্ট লিস্ট আটটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হিসাব অনুযায়ী, কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে না। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে আইজেনকোট এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট সরকার গঠনের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, মনসুর আব্বাস মনে করেন, নির্বাচনের পর আসনসংখ্যা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের নীতির বিরোধিতা এবং আরব অধ্যুষিত এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্যাট-নেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার আরব ভোটারদের উপস্থিতির হার ৬৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের নির্বাচনে এ হার ছিল ৫৬ শতাংশ।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব, সরকারের নীতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স।
