‘প্রকৃত ইসলামই নারীমুক্তির একমাত্র উপায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে হেযবুত তওহীদের ঢাকা বিভাগীয় নারী সম্মেলন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী বিভাগের প্রধান রুফায়দাহ পন্নী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগীয় নারী সম্পাদক তাসলিমা ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে সদ্যোজাত কন্যাশিশুকে জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়া হতো। পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীর কোনো অধিকার বা স্বীকৃতি ছিল না। নারীর চরম অবমাননার সেই সময়ে ইসলাম নারীমুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নারীদের সেই অন্ধকার থেকে মুক্ত করে মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, একসময় ইসলামের শিক্ষায় এমন নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে একজন নারী একা শত শত মাইল পথ পাড়ি দিলেও সম্ভ্রম কিংবা সম্পদ হারানোর আশঙ্কা করতেন না। অথচ বর্তমান সমাজে নারীরা তো বটেই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও রাতে একা চলাচলে নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রুফায়দাহ পন্নী বলেন, বর্তমান সমাজে নারীরা পদে পদে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এমনকি নিজ পরিবারেও অনেক নারী নিরাপদ নন। একদিকে ধর্মের নামে মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে নারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে স্বাধীনতার নামে নারীদের ভোগ্যপণ্যে পরিণত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নারীর প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করতে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই নারীর হারানো অধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে নারী সাহাবিদের আদর্শ অনুসরণ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এগিয়ে আসতে এবং বিশ্বব্যাপী নারীমুক্তির এ বার্তা ছড়িয়ে দিতে নারী সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন হেযবুত তওহীদের নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, যুগ্ম নারী সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ইলা ইয়াসমিন, শিক্ষক শাহীনা আক্তার, রাজনৈতিক কর্মী আসমা হোসাইন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নারী অধিকারকর্মী বহ্নি ব্যাপারী, ব্যবসায়ী সাবিনা আক্তার, সমাজসেবক শামীমা আরা এবং নারী উদ্যোক্তা শাহানা আলমসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মাটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীরা নারী জাগরণবিষয়ক গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্বব্যাপী নারীমুক্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
