ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আবিবগামী একটি বিমানে ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়াসহ তার নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাচ্ছারের এই ভূমিকার জন্য তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিমানটি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক যাত্রীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আহত অবস্থায়ও পাইলট যে উপস্থিত বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞান দেখিয়েছেন, তা বিস্ময়কর। এ কারণেই তিনি মাচ্ছারকে এক অর্থে ‘বীর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। মাঝ আকাশে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, সহ-পাইলটের হামলায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার আহত হন। পরিস্থিতির মধ্যে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায় এবং পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের সাহসের প্রশংসা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আহত অবস্থায় মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তার কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, বিমানটি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক যাত্রীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রী পেশায় একজন প্লাম্বার এবং আগে বিমান চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।

ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই যাত্রী ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে আসন থেকে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরাও তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। ট্রাম্প বলেন, ওই যাত্রী টেলিভিশনের একটি বিমান দুর্ঘটনাবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে বিমান চালনার কিছু মৌলিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলেন।
এরপর বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলট ও ক্রুরা ককপিটে পৌঁছে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ও সহ-পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফ্লাইটটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারিয়েছিল। যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিমানটি তাবুকে অবতরণ করে।
তবে ঘটনার উদ্দেশ্য ও পুরো পরিস্থিতি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। ফ্লাইদুবাই ঘটনাটিকে উড্ডয়নের সময় ঘটে যাওয়া একটি ‘ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প নিজেও তার বক্তব্যের একটি সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু তথ্য তিনি নেতানিয়াহু ও অন্যান্য প্রাথমিক সূত্রের কাছ থেকে শুনেছেন এবং সব তথ্য তিনি নিজে স্বাধীনভাবে যাচাই করেননি।
