মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে তেহরানের প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করলেও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবের অপেক্ষায় ছিল ইরান। বুধবার সেই জবাব তেহরানের কাছে পৌঁছেছে। তবে চিঠিতে কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবটি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে তুলে দেন। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও মার্কিন প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে যুদ্ধ বন্ধ ও কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে ইরান সাত দিনের একটি প্রস্তাব দেয়। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড়সহ কয়েকটি শর্তের কথা বলা হয়। একই সঙ্গে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এর আগে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর একটি সমঝোতার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় একসঙ্গে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে এবং পরে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য আপত্তি থাকলেও কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবে কী শর্ত দেওয়া হয়েছে এবং তেহরান তা কীভাবে গ্রহণ করে, তার ওপর পরবর্তী আলোচনা অনেকটাই নির্ভর করছে।
