নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি এ শোক প্রকাশ করেন।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত অঞ্চলের সড়ক, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক এলাকা কাদা ও পানিতে তলিয়ে গেছে।
তিব্বতের গিরং সীমান্ত চৌকির একটি ভবনে কাদা ও পানির বিশাল ঢেউ আঘাত হানার দৃশ্যও সামনে এসেছে। পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের কাছে জনপ্রিয় এই অঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম আকস্মিক বন্যার পানিতে ও কাদায় আংশিকভাবে তলিয়ে গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের পর লেন্দে খোলা নদীর উজানে থাকা বড় একটি হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ধসে পড়ার কারণে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। হিমবাহ ধসে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে।
এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানির প্রবাহ ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং সৃষ্টি হয় আকস্মিক বন্যা। প্রবল স্রোতের সঙ্গে নেমে আসা কাদা ও পাথরের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসও দেখা দেয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।
দুর্যোগকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে বিভিন্ন ধরনের উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের দ্রুত উদ্ধার ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
