ফরিদপুরের সালথায় স্কুলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জান্নাতি আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিশুটির বাবা অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি কোনো টাকা চান না; মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির বিচার চান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বড়বাংরাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জান্নাতি আক্তার বড়বাংরাইল পশ্চিমপাড়ার ইলিয়াস মুন্সির মেয়ে। সে বড়বাংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল জান্নাতি। এ সময় একই গ্রামের সেলিম মুন্সির ছেলে সজীব মুন্সি দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফুলবাড়িয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মোটরসাইকেলটি পেছন থেকে জান্নাতিকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর পর থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির মোল্লার উদ্যোগে মোটরসাইকেলচালকের পক্ষের সঙ্গে নিহত শিশুর পরিবারের ৪ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।
সাবেক চেয়ারম্যান মনির মোল্লা বলেন, দুই পক্ষই দরিদ্র হওয়ায় মামলার দিকে না গিয়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করা হয়েছে। তবে নিহত শিশুটির বাবা ইলিয়াস মুন্সি বলেন, তিনি কোনো টাকা চান না; মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির বিচার চান।
এ বিষয়ে সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
