দশমিনায় ব্যবসায়ীকে হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ সমকামিতায় রাজি না হওয়ায় টাকা পাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ, দাবি ভুক্তভোগীর
রাকিবুজ্জামান রাকিব দশমিনা (পটুয়াখালী) :
পটুয়াখালীর দশমিনায় মো. মশিউর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, হুমকি ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মো. আদনান শুভসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সমকামিতায় রাজি করাতে চাপ প্রয়োগ, অশালীন বার্তা ও ছবি পাঠানোর অভিযোগও করেছেন মশিউর রহমান। তার দাবি, সমকামিতায় রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে টাকা পাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
মশিউর রহমান জানান, তিনি ঢাকায় ব্যবসা করেন এবং তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। তার স্ত্রী মোসাম্মৎ সুমী চৌধুরী দশমিনা উপজেলার আলীপুরা চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। স্ত্রীর কর্মস্থলের কারণে তিনি নিয়মিত দশমিনায় আসা-যাওয়া করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে মো. আদনান শুভসহ তিনজন তাদের ভাড়া বাসার গেটে এসে ধাক্কাধাক্কি ও গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে স্থানীয় এক মুরব্বি ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তিদের গেট ভাঙার চেষ্টা করতে দেখেন বলে দাবি করেন মশিউর রহমান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই ব্যক্তিরা যাওয়ার সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মশিউর রহমানের দাবি, তাকে সমকামিতায় রাজি করানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে তাকে বিভিন্ন অশালীন প্রস্তাব, বার্তা ও ছবি হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে পাঠানো হয়েছে। সমকামিতায় রাজি করাতে চাপ প্রয়োগের কথোপকথনের একাধিক স্ক্রিনশট এবং মুঠোফোনে ধারণ করা কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রয়োজনে এসব তথ্য-প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করবেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, সমকামিতার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে টাকা পাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আর্থিক দেনা-পাওনা নেই এবং তাকে চাপের মধ্যে রাখতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
মশিউর রহমানের স্ত্রী সুমী চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে তিনজন ব্যক্তি বাসার গেটে এসে তালা ভাঙার চেষ্টা, গালিগালাজ ও হুমকি দেন। তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সুমী চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, তাকে তার কর্মস্থল থেকে বদলি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তার স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একাধিকবার বসাবসি হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে আদনান শুভর বিরুদ্ধে দশমিনা থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত ওই অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আদনান শুভ বলেন, মশিউর রহমানের সঙ্গে কুয়াকাটায় তার মাছের ব্যবসা ছিল। ওই ব্যবসা থেকে মশিউর রহমানের কাছে তার পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। পাওনা টাকা চাইলে মশিউর তার বিরুদ্ধে সমকামিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে তিনি, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান দশমিনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
