BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

স্বামীর মৃত্যু, কারাগারে দীপু মনি-শেষবারের মতো দেখতে পারবেন কি?

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তৌফিক নেওয়াজ। স্বামীর মৃত্যুতে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা দীপু মনি তার জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাকে সাময়িক প্যারোলে মুক্তির সুযোগ দিতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার জানাজা ও শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে সাময়িক প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হবে।

আইনজীবী জানান, তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেন। পারিবারিক জীবনে দীপু মনি ও তৌফিক নেওয়াজের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্বামীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দীপু মনি তাকে শেষবারের মতো দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকায় স্বাভাবিকভাবে কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। তবে নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে বিশেষ মানবিক কারণে বন্দিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে।

কারাগারে বন্দি কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে স্বল্প সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়াকে সাধারণভাবে প্যারোল বলা হয়। এটি আদালতের দেওয়া জামিনের মতো নয়; বরং এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশে নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু বা এ ধরনের জরুরি মানবিক পরিস্থিতিতে বন্দিকে জানাজা কিংবা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে প্যারোল দেওয়ার নজির রয়েছে। সাধারণত বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা অন্যান্য নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর মতো পরিস্থিতিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রণীত প্যারোল নীতিমালায় বন্দীর নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল অনুমোদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বন্দিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পুলিশ পাহারায় রাখার এবং নির্ধারিত সময় শেষে কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি। তার স্বামীর মৃত্যুর পর আইনজীবী প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার কথা জানিয়েছেন। এখন জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীতিমালা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

প্যারোল মঞ্জুর হলে নির্ধারিত সময় ও শর্ত মেনে পুলিশি নিরাপত্তায় দীপু মনিকে স্বামীর জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে প্যারোল পাওয়া মানে তার মামলায় জামিন পাওয়া বা কারাগার থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া নয়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাকে আবার কারাগারে ফিরতে হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০টিরও বেশি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে স্বামীর মৃত্যুর পর এখন তার সামনে একমাত্র প্রশ্ন—প্রশাসনের অনুমতি মিলবে কি না এবং মিললে কত সময়ের জন্য তিনি প্যারোলে মুক্তি পাবেন।

আইনজীবীর আবেদন ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে দীপু মনি স্বামী তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারবেন কি না।

Pearl IT
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স ডিজাইন
কন্টেন্ট পাবলিশিং
এসইও সার্ভিস
অর্ডার করুন »