জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারি বাসভবনে ভূতের দেখা না মিললেও একদিন হঠাৎ হাজির হয়েছিল একটি তেলাপোকা। সেটিকে মারতে রাজি হননি তিনি। বরং ছোটবেলার প্রিয় মাঙ্গায় থাকা পুনর্জন্মের ধারণার কথা মনে করে তেলাপোকাটিকে বেঁচে থাকার সুযোগ দেন। শেষ পর্যন্ত তার সহযোগীরা ‘অপারেশন কমব্যাট’ চালিয়ে তেলাপোকাটি সরিয়ে ফেলেন। এতে স্বস্তি পেলেও অদ্ভুতভাবে নিজেকে কিছুটা ‘একাকী’ বা ‘দুঃখী’ মনে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক খোলামেলা পোস্টে সরকারি বাসভবনে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তাকাইচি। সেখানে তিনি জানান, সরকারি বাসভবনে ভূত দেখেছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তেলাপোকার এই ঘটনার কথা প্রকাশ করেন।
৬৫ বছর বয়সী তাকাইচি জাপানের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা। গত ডিসেম্বর থেকে তিনি মধ্য টোকিওর সরকারি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকছেন।
তাকাইচি জানান, সরকারি বাসভবনে ভূত দেখার কোনো অভিজ্ঞতা তার হয়নি। তবে কিছুদিন আগ পর্যন্ত তেলাপোকা দেখলে তিনি নিজেই চিৎকার করে উঠতেন।
সরকারি বাসভবনে ওঠার পর পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও বেশ সতর্ক ছিলেন তিনি। খাবারের টেবিলের নিচের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করতেন, খাবারের উচ্ছিষ্ট শক্ত ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে রাখতেন এবং প্লাস্টিকের পাত্রগুলো ধুয়ে আলাদা করে রাখতেন।
এমন পরিচ্ছন্নতার পরও একদিন হঠাৎ তার পায়ের পাশ দিয়ে একটি তেলাপোকা ছুটে যায়। ঘটনায় বেশ অবাক হন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
তেলাপোকাটি দেখেও সেটিকে মারতে চাননি তাকাইচি। এর পেছনে রয়েছে তার ছোটবেলার একটি প্রিয় মাঙ্গা সিরিজের প্রভাব।
তিনি লেখক ওসামু তেজুকার জনপ্রিয় মাঙ্গা ‘ফিনিক্স’-এর কথা উল্লেখ করেন। ছোটবেলা থেকেই এই মাঙ্গার ভক্ত তাকাইচি এবং বহুবার বইটি পড়েছেন। এতে পুনর্জন্মের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে—জীবন একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত এবং সময়ের সঙ্গে রূপ বদলায়।
ছোটবেলার সেই ধারণা তার মনে এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে বড় হয়েও পোকামাকড়, এমনকি তেলাপোকাও হত্যা করতে পারেন না বলে জানান তিনি।
সামনে দিয়ে দৌড়ে যাওয়া তেলাপোকাটিকে দেখে তার মনে হয়, হয়তো এই জীবনও দীর্ঘ পুনর্জন্মের চক্রেরই একটি অংশ।
তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন তিনি। আশা ছিল, তেলাপোকাটি হয়তো নিজে থেকেই চলে যাবে।
তবে তেলাপোকাটি নিজে থেকে চলে না যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সহযোগীদের বিষয়টি জানান তাকাইচি। বিষয়টি শুনে তার সহযোগীদের একজন বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘এটা অপরিষ্কার। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
এরপর সরকারি বাসভবনে তেলাপোকা দমনে শুরু হয় কথিত ‘অপারেশন কমব্যাট’। অভিযান শেষে আর তেলাপোকাটিকে দেখা যায়নি।
তেলাপোকাটি সরিয়ে ফেলায় স্বস্তি পেয়েছিলেন তাকাইচি। তবে একই সঙ্গে তার মনে হয়েছিল, তিনি কিছুটা একাকী কিংবা হয়তো দুঃখীও।
সাধারণত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় থাকা জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার এমন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, টোকিও উইকেন্ডার
