কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডেকে শুক্রবার দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসি এলাকায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কর্মজীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের মধ্যে পদত্যাগের কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
মেট্রোপলিটন পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যাটারসি এলাকায় ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করলেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মৃত ব্যক্তি জেসন আরডে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানী আরডে গত মাস পর্যন্ত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে আলোচিত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাঁর গবেষণাকর্মে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এবং খেলাধুলা ও তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে করা বিভিন্ন দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। এসব বিষয় নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডেবোরাহ প্রেন্টিস শুক্রবার এক বিবৃতিতে আরডের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানান।
আগস্টের শুরুর দিকে পদত্যাগের সময় আরডে বলেছিলেন, তাঁর সিদ্ধান্তকে যেন জ্ঞানচর্চা বা গবেষণার প্রতি আস্থার অভাব কিংবা কোনো অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়া হিসেবে দেখা না হয়। তিনি জানান, তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বয়ান ও আলোচনার মধ্যে একজন মানুষের পক্ষে যুক্তিসঙ্গতভাবে সহ্য করার সীমার শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার পরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরডের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিক লুইস গুডাল এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরডেকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলোর ধরন ও মাত্রা নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের নিজেদের কাছে প্রশ্ন তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
অভিযোগ ওঠার পর থেকে আরডের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসা ‘দ্য গুড ল প্রজেক্ট’ও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক জো মগাম বলেন, আরডের ঘনিষ্ঠরা গণমাধ্যমকে পরিস্থিতির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগের পরও আরডেকে নিয়ে গণমাধ্যমের অনুসরণ বা প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বিষয়টি কতটা বিবেচনা করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো কী ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছিল।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েলও আরডের মৃত্যুতে হতবাক ও ব্যথিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই কঠিন সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আরডের যোগ্যতা ও একাডেমিক কাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর শুরুতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছিল, গবেষণাকর্মে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের বিষয়টি লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত করেছিল। আরডে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
তবে পরবর্তীতে কেমব্রিজ জানায়, অধ্যাপক আরডের যোগ্যতা ও সম্মানসূচক নিয়োগের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়ার পর তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও জানায়, ডারহাম ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ও সেখানে আরডের একাডেমিক বা অধ্যাপনা পদসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখছে।
আরডের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
