হেফাজতে ইসলামের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদ এবং সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে রংপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির স্থানীয় নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের রংপুর অঞ্চলের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শামীম অভিযোগ করেন, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বেআইনি ও অসাংবিধানিকভাবে হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সংগঠনটির সদস্যদের হত্যার হুমকি, কেন্দ্রীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং নারী সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া সারাদেশে সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ করতে সদস্যদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে মারধর ও হত্যার মতো হুমকি দিয়ে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, ওই ঘটনার পর কওমি ও হেফাজতপন্থী কিছু ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার এবং বেনামে মিথ্যা হ্যান্ডবিল তৈরি ও বিতরণ করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছেন। এতে সারাদেশের পাশাপাশি রংপুরেও সংগঠনের সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আব্দুল কুদ্দুস শামীম বলেন, এমন পরিস্থিতিতে রংপুরে বসবাসরত হেযবুত তওহীদের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি হেযবুত তওহীদকে ঘিরে হেফাজতের উগ্র কর্মকাণ্ড, হুমকি ও হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠার ৩১ বছর ধরে হেযবুত তওহীদ আইন মেনে সারাদেশে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরার কাজ করে আসছে। চলমান অন্যায়-অশান্তি দূর করতে বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করে জাতীয় জীবনে আল্লাহর বিধান কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। দীর্ঘ এই সময়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে আইন অমান্যের কোনো নজির নেই বলেও দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে, কওমি ও হেফাজতপন্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বলাৎকার ও যৌন নিপীড়নের মতো অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, এসব বিষয় আড়াল করে আল্লার বিধান মোতাবেক নিষেধকৃত ধর্মব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে হেযবুত তওহীদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও নিষিদ্ধের দাবিকে তারা ষড়যন্ত্রমূলক ও অন্যায় আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
হেফাজতের সঙ্গে বিরোধের কারণ ব্যাখ্যা করে আব্দুল কুদ্দুস শামীম বলেন, জাতীয় জীবনে আল্লাহর বিধান কার্যকর করার পাশাপাশি ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলায় কওমি-হেফাজতের কিছু উগ্রপন্থী ধর্মব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।সারাদেশের মতো রংপুরের বিভিন্ন স্থানেও সংগঠনটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অপতৎপরতা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অপতৎপরতা রোধে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন হেযবুত তওহীদের রংপুর অঞ্চলের সভাপতি।
এ সময় সংগঠনটির রংপুর জেলা সভাপতি এরশাদ হোসেন, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রুবেল, আন্তধর্মীয় যোগাযোগ সম্পাদক আব্দুল ওহাব মিন্টুসহ সাংগঠনের জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
