BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

স্বামী হারানোর শোকে ১৫ বছর স্বেচ্ছাবন্দী, অবশেষে হাসপাতালে ভর্তি!

স্বামী মারা যাওয়ার পর নিজেকে একটি জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে গুটিয়ে নিয়েছিলেন সালেহা বেগম। কেটে গেছে এক-দুই বছর নয়, টানা ১৫ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ঘর থেকে বাইরে বের হননি, কারও সঙ্গে কথা বলেননি। চরম অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাটছিল তার জীবন। অবশেষে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সেই বন্দিদশার অবসান হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর থেকে শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সালেহা বেগমকে বের করে আনেন তার ছেলে জিয়াউর রহমান।

এ সময় উদ্ধার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সালেহাকে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালেহা বেগমের স্বামী আবুল কালাম মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। স্বামীর মৃত্যুর শোক যেন তাকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে ওই জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে গুটিয়ে নেন।

একসময় ঘর থেকে বের হওয়া তো দূরের কথা, বাইরের মানুষের সঙ্গেও যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেন তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছরে একবারের জন্যও তাকে ঘরের বাইরে দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা। কারও সঙ্গে কথাও বলতেন না তিনি।

যে ঘরে এত দীর্ঘ সময় তিনি কাটিয়েছেন, সেটির অবস্থাও ছিল অত্যন্ত নাজুক। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তার জীবন ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি কীভাবে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেন কিংবা গোসল করতেন, সেটিও অনেকটা অজানা ছিল প্রতিবেশী ও স্বজনদের কাছে।

তবে এই কঠিন সময়ে মেয়ের কাছ থেকে নিয়মিত কিছুটা সহায়তা পেয়েছেন সালেহা। তার মেয়ে লাকী বেগম দীর্ঘদিন ধরে মায়ের জন্য খাবার নিয়ে আসতেন। অন্যদিকে ছেলে জিয়াউর রহমান নিজেই যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ায় মায়ের পাশে থাকার ইচ্ছা থাকলেও শারীরিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেভাবে দেখাশোনা করতে পারছিলেন না।

দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থায় থাকার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর প্রশাসনের উদ্যোগে সালেহাকে ঘর থেকে বের করে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

সালেহাকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছরের এই নিঃসঙ্গ ও মানবেতর জীবনের অবসান ঘটিয়ে এখন তার প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা, যত্ন এবং নিরাপদ পরিবেশ।

স্থানীয়রা সালেহার উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তার জন্য একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। জরাজীর্ণ ঘরের পরিবর্তে একটি নতুন ঘর পেলে জীবনের শেষ সময়ে অন্তত নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারবেন তিনি—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সালেহা বেগমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি তার নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে একটি নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

১৫ বছর ধরে যে ঘরটি ছিল তার পৃথিবী, অবশেষে সেই ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছেছেন সালেহা। এখন তার সামনে নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »