রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের উদ্দেশে বিএনপিকে নসিহত না করে আগে নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন দলের নেতারা বিএনপিকে নসিহত করছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপিকে নসিহত না করে আগে নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে স্থানীয় গ্রামবাসীর আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করেই বিএনপি খালের উন্নয়ন ও খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। যেসব উদ্যোগের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষের জীবনমান ও ভাগ্যের উন্নয়ন সম্ভব, বিএনপি সেসব কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় আসার প্রথম সাত দিনের মধ্যেই ১৩ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বিতা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিভিন্ন কলকারখানা পুনরায় চালু করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ১৭ বছর দেশে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়েও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, কিছু দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি এসব বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভ্রান্তকারীদের চক্রান্ত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। বিএনপির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের কাজ করা হবে।
