কক্সবাজারের পেকুয়ায় বোটে উঠতে গিয়ে স্ত্রীর চোখের সামনে পা পিছলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন শামীম (২৬)। শনিবার বিকেলে মগনামা লঞ্চঘাটে এ দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনী দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি। পরে চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর রোববার সকালে জেটিঘাটের নিচ থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে পেকুয়ার উপকূলীয় ইউনিয়ন মগনামা লঞ্চঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বোটে উঠে কুতুবদিয়া যাওয়ার সময় ঘাটের সিঁড়িতে পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
শামীম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি শিপিং কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় এক বছর আগে কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং মংলারপাড়ার করিমা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রামেই বসবাস করতেন।
স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তাকে বাবার বাড়ি কুতুবদিয়ায় রেখে আসার জন্য শামীম সঙ্গে নিয়ে রওনা হন। এটিই ছিল বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার যাত্রা। মগনামা জেটিঘাটে বোটের জন্য অপেক্ষা করার সময় ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
শামীমের স্ত্রী করিমা বেগম জানান, শনিবার দুপুরের দিকে তারা কুতুবদিয়া যাওয়ার জন্য মগনামা জেটিঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে বোট ঘাটে পৌঁছালে তারা বোটে ওঠার জন্য সিঁড়ি দিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম।
করিমা বলেন, শামীম ভালো সাঁতার জানতেন। কিন্তু পানিতে পড়ার পর খুব দ্রুত ডুবে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, অসাবধানতাবশত ওই যুবক পানিতে পড়ে যান। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম জানান, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর একটি করে দল উদ্ধার অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চললেও ডুবুরি দল না থাকায় নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের নিচে ডুবে যাওয়া স্থান থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের সঙ্গে থাকা এক জোড়া জুতা ও একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, শনিবার ঘাটে পা পিছলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া যুবকের মরদেহ রোববার সকালে উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
