কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রাথমিক পরিকল্পনায় একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং একটি রসদ সহায়তা জাহাজ রাখার কথা রয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে সেনা মোতায়েনের আগে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও জাতীয় সংসদের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এসবিএসকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য অভিযানের কাঠামোও প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামরিক মোতায়েনে পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে বিশেষায়িত একটি দল এবং রসদ সরবরাহে সক্ষম একটি সহায়তা জাহাজ যুক্ত হতে পারে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রে এসব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য সম্ভাব্য ঘাঁটি ও মূল কার্যক্রম পরিচালনার স্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার আলোচনা চলছে। অর্থাৎ, সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সম্ভাব্য মোতায়েনের লজিস্টিক ও পরিচালন কাঠামো নিয়েও কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে এ ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে দেওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে সিউলের অস্বীকৃতির পর দেশটির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরই হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে।
তবে এখনো এই মোতায়েন চূড়ান্ত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
ফলে সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি এগিয়ে গেলেও হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী শেষ পর্যন্ত মোতায়েন হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের ওপর।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক তৎপরতার আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য এই মোতায়েন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
