নাইজেরিয়ায় মধ্যরাতে তেল চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ার কবলে পড়ে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটির রিভার্স প্রদেশের ওক্রিকা এলাকার ওকারি জেটিতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওক্রিকা ও আশপাশের এলাকার ২০০ জনেরও বেশি তরুণ কাঠের নৌকায় করে ওকারি জেটিতে পৌঁছান। সেখানে রপ্তানির জন্য একটি জাহাজে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য তোলা হচ্ছিল। ওই স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপলাইনে অবৈধভাবে সংযুক্ত ট্যাপিং পয়েন্টের মাধ্যমে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরানোর চেষ্টা করেন তারা।
পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য নৌকায় তোলার সময় হঠাৎ ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বেশ কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজন নদীতে পড়ে ডুবে যান বলে জানা গেছে।
নাইজার ডেল্টাভিত্তিক পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ইয়ুথস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভোকেসি সেন্টার (ইয়েক-নাইজেরিয়া) একাধিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ফাইনফেস ডুমনামেনে ফাইনফেস জানান, নিহতরা একটি পাইপলাইন থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরানোর জন্য ট্যাপিং পয়েন্টে পাইপ সংযুক্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উচ্চচাপে পাইপলাইনের ভেতর দিয়ে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য যাওয়ার সময় তারা সেটি অপেক্ষমাণ নৌকায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের নদীতে বেশ কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাইজেরিয়ার পুলিশের মুখপাত্র ব্লেসিং আগাবে বলেন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র ও ভয়াবহতা বের করতে তদন্ত চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে ইন্দোরামা এলেমে পেট্রোকেমিক্যালস এলাকা থেকে পোর্ট হারকোর্ট শোধনাগার করিডোর হয়ে রপ্তানির জন্য অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোতে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পাঠানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোতেই অবৈধভাবে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন ওই তরুণেরা বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাইজেরিয়ায় তেল চুরি ও অবৈধ পরিশোধন দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে দেশটির তেলসমৃদ্ধ নাইজার ডেল্টা অঞ্চলে অবৈধ পাইপলাইন সংযোগ ও তেল চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনাও নতুন নয়।
চলতি বছরের এপ্রিলেও রিভার্স, ডেল্টা ও আকওয়া ইবোম প্রদেশে অভিযান চালায় নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী। ওই অভিযানে ১০টি অবৈধ তেল শোধনাগার ধ্বংস এবং তেল চুরির সন্দেহে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ১ লাখ ৩০ হাজার লিটারের বেশি চোরাই অপরিশোধিত তেল এবং ২৬ হাজার লিটারের বেশি অটোমোটিভ গ্যাস অয়েল উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছিল সেনাবাহিনী।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট রিভার্স প্রদেশে অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ তেল শোধনাগার ধ্বংস করার কথা জানায় নাইজেরিয়ার নৌবাহিনী। ওই অভিযানে অবৈধভাবে পরিশোধিত বলে সন্দেহ করা ৩৪ হাজার লিটার অটোমোটিভ গ্যাস অয়েলও উদ্ধার করা হয়।
ওকারি জেটির সর্বশেষ ঘটনায় তেল চুরির অভিযোগের পাশাপাশি বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় অবৈধ তেল উত্তোলন ও চোরাচালান ঠেকাতে দেশটির নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
