কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি বহুজাতিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, বুধবার কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এবং আক্রান্ত জাহাজটি কোন দেশের, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
বাণিজ্যিক নৌপরিবহনবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’ জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী বা পশ্চিমাঞ্চলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বিরল। কাতারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সংঘটিত এ হামলার বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের পর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখে। ইউকেএমটিও জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে নয়টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত মোট হামলার প্রায় অর্ধেক।
অন্যদিকে, তথ্য সংস্থা কেপলারের হিসাবে, এসব হামলার মধ্যেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধের আগের দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
