BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

দোয়ারাবাজারে মোবাইল চুরির জেরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৪৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ঘরের সিঁধ কেটে মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ছাতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর জখম হওয়া দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নৈনগাঁও গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এই সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম নৈনগাঁও গ্রামের রফিক মিয়ার আত্মীয় আব্দুল জব্বারের বসতঘরে সিঁধ কেটে মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সেলিম মিয়ার ভাতিজা সালমিন মিয়াকে তারা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সালমিনকে মাদকদ্রব্য সেবনের দায়ে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠান।

তবে এর দুই দিন পর আজেন্টা বা নিজের চুরি যাওয়া মোবাইলগুলো খুঁজে পান আব্দুল জব্বার। মোবাইল চুরির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৈনগাঁও গ্রামের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যেও বিগত কয়েকদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জেরে শনিবার দুপুরে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে সেলিম মিয়ার স্বজনেরা রফিক মিয়ার স্বজন ও ইজিবাইক চালক শামীম আহমদকে মোবাইল খুঁজে পাওয়া নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সালমিনের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করা হলে শামীম মিয়া তার প্রতিবাদ করেন। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে সেলিম মিয়ার সমর্থক এবং রফিক মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন: শামীম মিয়া, মঈন উদ্দিন, আঙ্গুর মিয়া, সোহেল মিয়া, ফুলতেরা বেগম, হেলাল মিয়া, আল-আমিন, বাসির, পাভেল, ফাহিম, দেলোয়ার হোসেন, আলী হোসেন, সেলিম আহমদ, মোস্তাক হোসেন, তোফায়েল আহমদ, জুবায়ের আহমদ, আনোয়ার হোসেন ও ওবায়দুল রহমান। এ ছাড়া অন্য পক্ষ থেকে ফয়েজ আহমদ, জহুর আলী, লিয়াকত আলি, তমির উদ্দিন, সোহেল মিয়া, আল-আমিন, আক্তার হোসেন, এলম মিয়া, সালিম উদ্দিন, কলিম উদ্দিন, কামাল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, কামরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, রহিমা বেগম, সুজিনা বেগম, আছাবুন্নেসা, আনিছা বেগম, মছব্বির আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, জামিল আহমদ, তাজির উদ্দিন, জাবেদ, রুবেল, স্বরূপা বেগম, কালা মিয়া, মাহদী, খসরু মিয়া, সোহাগ ও আলাইসহ উভয় পক্ষের ৪৫ জন আহত হয়েছেন।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সড়ক দখল করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের ৪৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় লিখিত মামলা দায়ের করেনি।”

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »