নিউইয়র্কের রাজপথে এবার প্রতিবাদের কণ্ঠে যোগ দিলেন হলিউডের পরিচিত তারকারাও। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে তাঁর সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, হান্নাহ আইনবাইন্ডারসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখ। নিউইয়র্ক পুলিশের অভিযানে সুসান ও হান্নাহসহ বহু বিক্ষোভকারী আটক হন। আয়োজক সংগঠন ‘জিউয়িশ ভয়েস ফর পিস’ জানিয়েছে, আটকের সংখ্যা শতাধিক।
জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে ফার্স্ট অ্যাভিনিউতে বৃহস্পতিবার বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শত শত বিক্ষোভকারী। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো’, ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘বোমার পেছনে নয়, মানুষের পেছনে অর্থ দাও’—এমন বার্তাও দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের হাতে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পরিচিত মুখদের মধ্যে ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন এবং ‘হ্যাকস’ সিরিজের অভিনেত্রী হান্নাহ আইনবাইন্ডার। এছাড়া সিনথিয়া নিক্সন, এলিয়ট পেজ, ইন্ডিয়া মুর, সারাহ শেরম্যান, ক্যালেব হিয়ারন, মেরি বেথ ব্যারোন, লুসি ড্যাকাস ও জুলিয়ান বেকারসহ বিনোদন অঙ্গনের আরও কয়েকজনকে সেখানে দেখা যায়। তবে তাদের সবাইকে আটক করা হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ রাস্তার মোড় অবরুদ্ধ করে অবস্থান নেয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেন। কিন্তু অনেকে অবস্থান চালিয়ে গেলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। এ সময় সুসান সারান্ডন ও হান্নাহ আইনবাইন্ডারকেও পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।

আয়োজক ‘জিউয়িশ ভয়েস ফর পিস’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর জাতিসংঘে ভাষণের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতের বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার সময় হান্নাহ আইনবাইন্ডারকে ‘নেতানিয়াহু, নিউইয়র্ক ছাড়ো’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, তাঁর ও অন্যদের আটকের ছবি যেন মূল সংকটের দিকেই মানুষের দৃষ্টি ফেরায়।
অন্যদিকে, সুসান সারান্ডন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি গাজা যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। হান্নাহ আইনবাইন্ডারও ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এবং এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।
বিক্ষোভের সময় জাতিসংঘের ভেতরেও নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁর ভাষণ শুরু হলে বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে জাতিসংঘের ভেতরের কূটনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি ভবনের বাইরেও বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক আলোচনা।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স
