রংপুরের কাউনিয়ার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর বাহাগীলি গ্রামের ১০ বছর বয়সী শিশু মোছা. সাদিয়া আক্তার জন্ম থেকেই এক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। স্বাভাবিক পায়ুপথ না থাকায় জন্মের পর সাময়িক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেটের অংশে একটি ছিদ্র করে মলত্যাগের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। এরপর থেকে পেটের ওই কৃত্রিম পথ দিয়েই অত্যন্ত কষ্টকরভাবে মলত্যাগ করে আসছে সে।
সাদিয়া বর্তমানে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার এই শারীরিক সমস্যা আরও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা ও আনন্দে সময় কাটায়, তখন সাদিয়াকে প্রতিনিয়ত এই শারীরিক কষ্টের সঙ্গে লড়াই করে চলতে হচ্ছে। তবুও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছে এই শিশুটি।
সাদিয়ার বাবা দিনমজুর আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাদিয়ার এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করানো জরুরি। ঢাকার ডা. প্রসেনজিৎ দত্ত আগামী সপ্তাহে তার এই অস্ত্রোপচার করবেন। এ চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

পেশায় দিনমজুর আশরাফুল ইসলাম দিন এনে দিন খান। তার পরিবারের পক্ষে যেখানে দৈনিক সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে মেয়ের চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ টাকা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউছুব আলী বলেন, সাদিয়ার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ্য তার দিনমজুর বাবার নেই। তাই সাদিয়ার জীবন বাঁচাতে সরকার ও বিত্তবান মানুষদের মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মেয়ের কষ্টের কথা তুলে ধরে সাদিয়ার বাবা-মা আকুতি জানিয়ে বলেন, সরকার, সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তায় তাদের মেয়ে যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। সাদিয়ার চিকিৎসায় সাহায্য পাঠাতে ০১৯৮৭৩২৭৭৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
