মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ,মির্জাগঞ্জ, প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফর মৃধা (৪৮) ও তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে অনিক মৃধা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা সেতুর কাছাকাছি শিবচর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন হতাহত হন। পরে জাফর মৃধা ও তার ছেলে অনিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
নিহত মোঃ জাফর মৃধা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকড়াবুনিয়া গ্রামের আহমদ মৃধার ছেলে। তিনি সুবিদখালী বাজারের নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের কোহিনুর গার্মেন্টস’-এর মালিক এবং
একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন। তাঁর ছেলে অনিক মৃধা তার সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দোকানের মালামাল কেনা এবং ছেলে অনিকের চিকিৎসার জন্য জাফর মৃধা তাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে তারা হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হানিফ পরিবহনের বাসটি একটি ‘পালকি’ গাড়ির পেছনে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝখানের সীমানা আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পর বাসের এক পাশ ওপরে উঠে গিয়ে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। জাফর মৃধা ও তাঁর ছেলে অনিকও গুরুতর আহত হন এবং পরে তাদের মৃত্যু হয়।

জাফর মৃধার আকস্মিক মৃত্যুতে
নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন নান্নু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের সম্মানিত গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফর মৃধার অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে নান্নু শপিং কমপ্লেক্স পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।
তিনি ছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী। তাঁর মৃত্যু ব্যবসায়ী সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
শোকবার্তায় মরহুম জাফর মৃধা ও তাঁর ছেলে অনিক মৃধার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা হয়।
“এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, এবিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে বলা হয়েছে। জাফর মৃধার ব্যাগে দুই লাখ ঊনচল্লিশ হাজার চারশত টাকা পাওয়া গেছে। সেটা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
