BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

ভারতে শিক্ষিত তরুণরাই সবচেয়ে বেশি বেকার!

ভারতে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ হলেও স্নাতকদের মধ্যে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশে। দেশটির সরকারি নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। অর্থনীতিবিদদের মতে, শিক্ষিত তরুণদের দক্ষতা ও কর্মবাজারের চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের ধীরগতির সম্প্রসারণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নে কম বিনিয়োগ এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ উচ্চশিক্ষা শেষ করেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। ডিগ্রি থাকলেও উপযুক্ত চাকরির সুযোগ না থাকায় অনেক তরুণকে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

শিক্ষিতদের বেকারত্বের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মবাজারের চাহিদার মধ্যে পার্থক্যের কথা বলছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়া হচ্ছে, আধুনিক কর্মবাজারে তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অনেক ক্ষেত্রেই মিল নেই।

এর পাশাপাশি ভারতের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতেও বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম। দেশটির ‘ইকোনমিক সার্ভে’ অনুযায়ী, জিডিপির মাত্র ০ দশমিক ৬৪ থেকে ০ দশমিক ৬৫ শতাংশ গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করে ভারত। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ, চীনে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বেসরকারি খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির দেশগুলোতে গবেষণা ও উন্নয়নে বেসরকারি খাতের গড় অবদান যেখানে প্রায় ৬৮ শতাংশ, ভারতে তা অর্ধেকেরও কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ADS Payra UP Election

অন্যদিকে, ভারতের কর্মসংস্থানের বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক বা অসংগঠিত খাতনির্ভর। প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী এই খাতে কাজ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য স্থায়ী, নিরাপদ ও তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরির সুযোগও সীমিত থাকছে।

অর্থনীতিবিদ ইন্দ্রজিৎ বৈরাগ্য ২০১৮ সালেই সতর্ক করেছিলেন, শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বও বাড়তে পারে। কারণ শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ ছোটখাটো বা অনানুষ্ঠানিক কাজে যেতে আগ্রহী নন, আবার তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপদ ও ভালো বেতনের চাকরিও তৈরি হচ্ছে না।

নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মাত্র ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ স্নাতক তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদে কাজ করছেন। বাকিদের কেউ যোগ্যতার তুলনায় কম দক্ষতার কাজ করছেন, আবার কেউ প্রথাগত ডিগ্রির পর আলাদা করে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘ইন্ডিয়া এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট ২০২৪’-এও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাত থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের জন্য উপযুক্ত ও ভালো আয়ের কর্মসংস্থান তৈরিতে ভারতের অর্থনীতি এখনো পর্যাপ্ত সক্ষমতা দেখাতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে, অন্যদিকে উৎপাদনমুখী ও শ্রমনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা এবং শিল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থানের কার্যকর সংযোগ তৈরি না হলে শিক্ষিত বেকারত্বের সংকট সহজে কাটবে না।

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »